মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর প্রতি প্রেরিত প্রথম ওহীটাই ছিল "পড়,
তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন' (সূরা আলাক: ০১)
মহান আল্লাহ পাক অন্যত্র এরশাদ করেন, 'হে নবী বলুন, যারা জ্ঞানী আর
যারা মুর্খ তাদের মর্যাদা কি সমান হতে পারে?' (সূরা যুমার: ০৯)
রাসূলে কারীম (স.) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন করা
ফরজ। (ইবনে মাজাহ) অন্যত্র তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি দ্বীনি ইলম
অন্বেষণ করে, উহা তাঁর পূর্ববর্তী গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়
(তিরমিজি)।
প্রকৃত পক্ষে একজন মুসলমানকে অবশ্যই কুরআনুল কারীম ও সুন্নাতে
রাসূল (স.) সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান অর্জন করতে হয়। পাশাপাশি আধুনিক
বিশ্বায়নের যুগে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা, ভাষা ও
সাহিত্যে তথা সকল জ্ঞান অন্বেষণ আবশ্যক, তাই জীবনের শুরুতে তথা
প্রাথমিক শিক্ষার সময়েই-এর মজবুত ভিত্তি তৈরী করতে হয়। কারণ,
প্রাথমিক পর্যায়ে দূর্বল ভিত্তি তৈরী হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে গ্রামীন
জনগোষ্ঠীতে গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব একবিংশ
শতাব্দীতেও চোখে পড়ার মতো। তাই আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের
বিশাল সংখ্যক কোমলমতি শিশু অঙ্কুরেই ঝড়ে পড়ছে। এরা সম্পদের
পরিবর্তে হচ্ছে বোঝা। অথচ সামান্য পরিচর্যা পেলেই এসব শিশু সৌরভ
ছড়াতো সারা পৃথিবীতে। হতে পারতো আগামী দিনের বিরাট সম্পদ এবং
দেশ ও জাতীর অকুণ্ঠ খাদেম।
উপরোক্ত সকল বিষয় বিবেচনা করে কোমলমতি শিশুদেরকে দ্বীনি ও
দুনিয়াবি জ্ঞানে সেরা মানের বিদ্যান হিসেবে তৈরী করার পাশাপাশি
আদর্শবান, চরিত্রবান, ও তাকওয়াবান রূপে গড়ে তোলার মহান লক্ষ্যকে
সামনে রেখে সম্পূর্ণ ক্যাডেট পদ্ধতিতে সর্বাধুনিক সিলেবাসের সমন্বয়ে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে "নূরানী একাডেমী বাংলাদেশ"।
একাডেমীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
শিক্ষানবিশ ছাত্রদেরকে প্রকৃতভাবে তাফসীর, হাদীস, আরবী, বাংলা,
ইংরেজী, ফিকাহসহ ইসলামের সর্বোচ্চ জ্ঞান দান করে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ও
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করা আমাদের মুখ্য
উদ্দেশ্য। ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ইসলামী সংস্কৃতির ধারক বাহক তৈরী করা এবং
হালাল জীবিকা উপার্জনের লক্ষ্যে কারিগরি ও প্রযুক্তি বিদ্যা শিক্ষাদান। তাদের
মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নৈতিকতা বোধ, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উৎসাহ সৃষ্টি
করা।